Bengali Golpo – মহৎ কাজে ও চুরি করা পাপ

বহুকাল আগের কথা।  চন্দ্রপুর নামক রাজ্যে ব্রাহ্মণ  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলিঙ্গরাজ।  কলিঙ্গরাজ ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন।

কলিঙ্গরাজ  ছোটবেলা থেকেই একজন গুরুদেবের কাছে বিদ্যা  চর্চা শুরু করলেন। গুরুদেব কলিঙ্গরাজের জ্ঞান ও উপস্থিত বুদ্ধি দেখে প্রায়শই  মুগ্ধ হয়ে যেতেন। গুরুদেবের আশ্রমে প্রায় দুইশত ছাত্র ছাত্রী ছিল। তার মধ্যে কলিঙ্গ রাজি ছিল গুরুদেবের সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র।

গুরুদেবের এক পরমা সুন্দরী কন্যা ছিল।  আর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মত গুরুদেবের কন ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলো।  গুরুদেব এবার ভাবতে লাগলেন মেয়ের বয়স হয়েছে, এবার মেয়ের বিয়ে দেওয়া দরকার।  কিন্তু অপরিচিতের চাইতে নিজের পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দিলে ভালো হয়।  

তাই তিনি মনে মনে ঠিক করলেন আশ্রমের মধ্যে সবচাইতে  চরিত্রবান এবং সৎ যুবকের সঙ্গেই তাঁর কন্যাৱ বিবাহ দেবেন। 

তারপর একদিন গুরুদেব আশ্রম এর সকল শিষ্যদের ডেকে বললেন,  প্রিয় শিষ্যগণ এত কাল আমি তোমাদের কেবল শিক্ষাই দিয়ে এসেছি,  বিনিময় কোন কিছুই নিইনি। আজ আমার কন্যা বিবাহযোগ্য হয়ে উঠেছে,  কিন্তু বিবাহ দিতে গেলে যে পরিমাণ পোশাক-আশাক দরকার তার কোন কিছুই আমার নেই।  

তাই তোমাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ তোমরা যে যা পারো নিয়ে এসে আমাকে একটু সাহায্য করো।  কন্যাদায়গ্রস্ত একজন পিতাকে মুক্তি দাও। তবে হ্যাঁ আমার একটা শর্ত আছে। ‘ 

শত্ত শোনার জন্য সকল শীর্ষ  গুরুদেবের দিকে এক দষ্টিতে তাকিয়ে রইল।  গুরুদেব এবার বলতে লাগলেন, তোমরা যে যা কিছুই আনো না কেন কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রাণে যেন তা না দেখতে পায়, এমনকি জানতেও যেন না পারে।

শিষরা গুরুদেব কে সম্মতি জানিয়ে যে যার বাড়িতে চলে গেল।  পরের দিন একে একে সব শীর্ষ লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু না কিছু জিনিস  বাড়ি থেকে নিয়ে এসে গুরুদেবের পায়ের সামনে জমা দিলেও, এবং গুরুদেব কে প্রণাম করে উঠে দাড়ালো।  

কিন্তু কলিঙ্গরাজ কিছুই আনলেন না।  কলিঙ্গরাজ খালিহাতেই গুরুদেব কে প্রণাম করে উঠে দাঁড়ালেন।  গুরুদেব অবাক হয়ে কলিঙ্গরাজ কে জিজ্ঞাসা করলেন ? ‘ প্রিয় শিষ্য, সবাই কিছু না কিছু জিনিস এনেছে  কিন্তু তুমি তো কিছুই নিয়ে এলে না খালি হাতে এলে এর কারণ কি।  

কলিঙ্গরাজ মাথা নিচু করে হাতজোড় করে বললেন, ‘ আমাকে ক্ষমা করবেন গুরুদেব’। আমি  কিছু আনতে পারলাম না, আমার বিবেকে আর আপনার শিক্ষা আমাকে বাধা দিল। 

গুরুদেব কলিঙ্গ রাজ্যের ওই কথা শুনে তাকে   পুরোটা খুলে বলতে বললেন। কলিঙ্গরাজ বললেন, ‘  অপরাধ নেবেন না গুরুদেব, আপনি বলেছেন জিনিস লুকিয়ে আনতে।   আর না বলে কোন জিনিস আনলে সেটা যে চুরি পর্যায়ে পড়ে, আর চুড়ি মানেই যে পাপ।  আর আপনিতো শিখিয়েছেন কোন পাপ করতে নেই। আর আমি যদি আজকে না বলে কোন জিনিস নিয়ে আসতাম তাহলে সেটা তো চুরি পর্যায়েই  পড়তো। তাই আমি আর কিছু আনতে পারলাম না। 

গুরুদেবের মুখ প্রসন্ন হাসিতে ভরে গেল।  তিনি মনে মনে ভাবলেন কন্যার যোগ্য জীবনসঙ্গী তিনি খুঁজে পেয়ে গেছেন।  তিনি তারপর তার সকল শিষকে ডেকে বললেন, আমি তোমাদের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। যেই পরীক্ষায় একমাত্র কলিঙ্গরাজ উত্তীর্ণ হয়েছে।  তাই আমি চাই কলিঙ্গরাজের সঙ্গে আমার কন্যাৱ বিবাহ দিতে।  

তারপর তিনি সমস্ত  শিষদের তাদের জিনিস ফেরত নিয়ে যেতে বললেন।  এবং কলিঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে তার কন্যার বিবাহ দিয়ে দিলেন।

“এর থেকে বোঝা যায় যে মহৎ কাজেও কখনো চুরি করতে নেই।”

গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।  গল্পটি ভাল লাগলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে গল্পটি শেয়ার করে দেবেন এবং কমেন্ট করতে ভুলবেন না কখনো।নমস্কার।

আরো পড়ুন: Bangla Golpo – শোনা কথায় কখনো কান দিতে নেই

Leave a Comment