Bengali Story – পরম সুখের সত্য

সামনে বাবলা বনের ভেতর দিয়ে গেছে নদী। নদীটির নাম সঠিক জানা নেই।সেদিন পাড়াগাঁয়ের ভিতর দিয়ে একটি ছোট ছেলে ছুটতে ছুটতে যাচ্ছিল কারণ সেদিন ছিল তার সবচেয়ে সুখের দিন ও তার খুশি ও আনন্দের দিন। খুশিতে লাগছিল তার ছোট নিষ্পাপ মনটা।

          একদিন সেই ছোট্ট ছেলে বড় হয়ে গেল এবং তার ছোটবেলার স্বপ্নকে খুঁজে পাওয়ার ও মনে করার চেষ্টা করল। কিন্তু সেই ছেলেটি মনে ছিল হাজার প্রশ্ন হাজার কল্পনা। কিন্তু সেই জানতো যে সে কোনদিন তার কল্পনা সত্যি করতে পারবেনা।তবুও সেই সারাদিনের মধ্যে যতটুকু সময় তার কাজ থাকত না সেই সময়টুকু তার স্বপ্নকে ফিরে পেতে চেষ্টা করতো। কিন্তু স্বপ্নটি কি তা সে প্রকাশ করত না কারোর কাছে।হঠাৎ সে একদিন সেই নদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ সে শুনতে পেল একটি কন্যা আওয়াজ ,সেই ছেলেটি ছুটে গেল সেই আসা চিৎকারের দিকে এবং সে দেখতে পেল যে সেই কন্যাটির সামনে একটি সাপ এসে পড়েছিল কন্যাটির পায়ের কাছে তাই কন্যাটি ভয় পেয়ে চেচিয়ে উঠেছিল।সেই ছেলেটি সেই কন্যার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল রূপসী আপনার কি কোন প্রকার সমস্যা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সেই মেয়েটি বলে উঠল এই তুমি কি ছেলেটি বলে উঠলো আমি হলাম নৃসিংহ পুরের বাসিন্দা।

          এরপর সেই ছেলেটি বলে উঠলো এই তুমি কে কোথা থেকে এসেছো তুমি? তোমার বাড়ি কোথায়? আর তুমি এখানে একা একা কি করছো?

          তখন সেই কন্যাটি বলল আমি এক ভিম রাজ্যের বাসিন্দা অনেক দূর থেকে এসেছি এবং তারপর সেই মেয়েটি বলল একটি ঘটনার ফলে তার পরিবার মারা যায়।

          হঠাৎ এক দল মানুষ সেই মেয়েটির পিছু নিতে নিতে তারা বিড়বিড় করে বলছে , ফসকালেই হয়!ফসকালেই হয়! এরপর সেই ছেলে এবং মেয়েটি দৌড়াতে দৌড়াতে সেই নদীতে ঝাঁপ দিল। এরপর তারা পায়ের কাছে গিয়ে টলতে টলতে পরি কি মরি করতে করতে কোনরকমে তো প্রাণী ডাঙ্গায় হেসে উঠলো।উঠেছে কি অমনি সপাং সপাং চাবুক এর মত এক ঝলক বালিশে চোখে মুখে কানা করে দিল।সারাদিন খায় রোদ্দুরে পুড়ে মেজাজ তাদের সব তিরিক্ষি হয়ে আছে। যেখানে লাগে ফোসকা পুড়িয়ে দেয়। নদীর পাড়ে গোটাকয়েক জল খাবারের দোকান আছে। চারিদিকে আর কোন জনমানুষ নেই। চায়ের গেলাসে গলা পর্যন্ত থিক করছে বালি ।দোকানের চালা গুলো নতুন। নদীখাত ছিল আগে আরো ওপাশে এখন আর চিহ্নমাত্র নেই তার। নদী ভাঙতে ভাঙতে চলেছে সামনের দিকে।নদীর ঠিক বুকের ওপর নতুন উঠেছে। উত্তরে অনেক রাস্তা।যতদূর নজর যায় লোক চোখে পড়েনা গ্রামগুলো খা খা করছে পোড়া রোদ্দুরে।

এরপর অনেকটা পথ হাঁটার পর তারা দুজনে কয়টি গ্রাম অতিক্রম করে তারা সেই ছেলেটির গ্রামে গিয়ে পৌঁছলো।এরপর ধীরে ধীরে সেই মেয়েটি এমন ছেলেটি গ্রামের এক মন্দিরের সামনে লাড্ডু বানিয়ে বিক্রি করতে লাগল প্রসাদ হিসেবে। এবং তাদের প্রতিদিনের বানানো লাড্ডু প্রতিদিনই শেষ হয়ে যেত যেত এবং যার ফলে তাদের প্রচুর অর্থ উপার্জন হতে লাগলো এবং তার একটি এবং তারা একটি বিশাল অট্টালিকা বানাইয়া সেখানে বসবাস করতে লাগল। ধীরে ধীরে তাদের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অহংকার ও চরম সীমায় পৌঁছে যেতে লাগলো। তাদের অহংকার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তারা বাড়িতে আসা অতিথিদের অপমান করে তাড়িয়ে দিতে লাগলো।এরপর একদিন তাদের বাড়িতে একটি সাধু উইথ হলো এবং সেই বাড়ির লোকজনদের কাছে তাকে ভিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলো।এরপর অহংকারে বশীভূত হয় ছেলেটি সেই বাড়িতে আসা দুটির ওপর কিছু টাকা সেই সাধুর মুখের দিকে ছুড়ে মারল। এর ফলে সেই সাধুটি তাদের অভিশপ্ত করলো যে তারা আর কোনদিন ও প্রকৃত সুখ ভোগ করতে পারবে না।

এই বলে সেই সাধুটি সেখান থেকে চলে গেল। এবং সেই ছেলেটির দেওয়ার তো সেই মাটিতে পড়ে রইল। সাধুর দেওয়া অভিশাপ এর ফলে ধীরে ধীরে সেই পরিবারের একে একে মরে যেতে লাগলো। কিছুদিন পর সেই ছেলেটিও মেয়েটিকে মুনি ঋষির কাছে গিয়ে পৌঁছয় এই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কারণ জানার জন্য।তাদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে সেই মুনিঋষি বলেন যে তার বাড়িতে আসা সাধুটি নিজেকে অপমানিত বোধ করায় সেই পরিবারের ওপর এক অভিশাপ নিয়ে যায়।এরপর সেই ছেলেটি ও মেয়েটি এমুলসন করার জন্য সেই মনের কাছে এই অভিশাপ কাটানোর উপায় জানতে লাগলো। এরপর সেই মুনিঋষি বলল তাকে যে সেই সাধুটি কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য। এরপর তারা কিছুদিন খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ একটি গ্রামে গিয়ে সেই ছাত্রটিকে খুঁজে পেল। এরপর তারা দুজনে মাথানত করে সেই সাধু টি কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করল। এরপর সেই ছাত্রী তাদের ক্ষমা করে নিয়ে বললো ময়না নদীর তীরে গিয়ে তিনটি ডুব দিতে হবে এবং পূর্ব দিকে মুখ করে প্রণাম করার জন্য আদেশ দিল। এটি করে তারা সেই সাদর অভিশাপ থেকে মুক্তি পেল এবং এরপর তারা দুজনে সুখে ঘর-সংসার করতে লাগলো।

          আশাকরি এই গল্পটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। এই গল্পটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন।

আরো পড়ুন: Bengali Golpo – মহৎ কাজে ও চুরি করা পাপ

Leave a Comment